রোগ দমন: মরিচে চারা অবস্থায় ড্যাম্পিং অফ রোগ হতে পারে। এ রোগ দমনের জন্য এক কেজি বীজ ৩ গ্রাম প্রোভেক্সের সাথে মিশিয়ে বীজ শোধন করে নিতে হবে। বীজতলা শুকনা রাখতে হবে। মরিচ গাছ অনেক সময় আগা থেকে গোড়ার দিকে ক্রমান্বয়ে শুকিয়ে মারা যায়। একে ডাইব্যাক রোগ বলে। এ রোগ দমনের জন্য ১ গ্রাম ব্যাভিস্টিন ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করতে হয়। হলুদ মোজাইক ভাইরাস রোগ দমনের জন্য আক্রান্ত গাছ দেখামাত্র তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। রোগ প্রতিরোধী জাতের মরিচ চাষ করতে হবে।

পোকামাকড় দমন: এক ধরনের ক্ষুদ্র মাকড়ের আক্রমণে চারা গাছের পাতা কুঁকড়িয়ে যায়। প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম থিওভিট মিশিয়ে ১০ দিন পর পর স্প্রে করে মাকড় দমন করা যায়। থ্রিপস ও জাবপোকার আক্রমণ দেখা দিলে ম্যালাথিয়ন ৫০ ইসি ১ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ফসল সংগ্রহের সময় কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার না করাই ভালো। ব্যবহার করলেও ৫-৭ দিন ফসল সংগ্রহ বন্ধ রাখা উচিত।
ফসল সংগ্রহ: চারা রোপণের ৩০-৪০ দিন পর গাছে ফুল আসা শুরু হয়। কাঁচা মরিচ পরিপক্ক হতে ২৫-৩০ দিন সময় লাগে। মরিচ পাকতে আরো ২৫-৩০ দিন সময় লাগে।
কাঁচা মরিচ সপ্তাহে ২-৩ বার এবং পাকা মরিচ ১৫ দিন পর পর প্রায় ২-৩ মাস সংগ্রহ করতে হয়।
ফলন: জাতভেদে ফলনে তারতম্য হয়। প্রতি হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচ উৎপাদন করলে গড়ে ৬-১০ টন ফলন পাওয়া যায়। তবে শুকনা মরিচ উৎপাদন করলে ১.৫-২.৫ টন ফলন হয়।
টবে মরিচ চাষ পদ্ধতি
এতক্ষণ আমরা মাঠে মরিচ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানলাম। এখন আমরা টবে কীভাবে মরিচ চাষ করতে হয় সে সম্পর্কে জানব। টবে মরিচ চাষ করতে হলে প্রথমে ৬-১০ ইঞ্চি ব্যাসের মাটির বা প্লাস্টিকের টব নিতে হবে। টবের মাটি তৈরি করার জন্য দোআঁশ মাটি এক ভাগ, বেলে মাটি এক ভাগ এবং গোবর সার এক ভাগ নিয়ে ভালো ভাবে মেশাতে হবে। এবার টবের নিচের ছিদ্রের উপর হাঁড়ি বা কলসি বা ইটের টুকরো বসাতে হবে। যাতে অতিরিক্ত পানি চুইয়ে বের হয়ে যেতে পারে। মেশানো মাটি দিয়ে টব ভর্তি করতে হবে। প্রস্তুতকৃত টবে মরিচের চারা রোপণ করে হালকাভাবে ঝাঁঝরি দিয়ে পানি সেচ দিতে হবে। সারা দিনে অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা সূর্যের আলো পায় এমন জায়গায় টব বসাতে হবে। তবে চারা লাগানোর প্রথম কয়েক দিন টব দুপুরের সময় ছায়ায় রাখতে হবে।

টবে মরিচ চাষের ক্ষেত্রে কম্পোস্ট বা গোবর সার ব্যবহার করাই ভালো। সারের অভাব হলে টবের উপরের মাটি সাদা হয়ে যায়, মাটিতে রসের অভাব দেখা যায়। এ রকম হলে নিড়ানি দিয়ে টবের মাটি আলগা করে সার মিশিয়ে দিতে হবে। টবে এমনভাবে পানিসেচ দিতে হবে, যেন পানি জমে না যায়। টবে ঘন ঘন পানিসেচ দিতে হয় বলে উপরের মাটি শক্ত হয়ে যায়। এ জন্য কয়েক দিন পর পর নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হবে।
| কাজ: টবে কী কী শাকসবজি চাষ করা যায় তার একটি তালিকা তৈরি কর। |
Read more